বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
জানুন আরাফার দিনে দোয়ার রহমত ও আমলের গাইড!
অনলাইন ডেস্ক
আরাফার দিন হাজিরা আরাফার ময়দানে উপস্থিত থেকে মহান আল্লাহর দরবারে নিজেকে সমর্পণ করেন। এদিন মসজিদে নামিরা থেকে হজের গুরুত্বপূর্ণ খুতবা প্রদান করেন সৌদি সরকারের মনোনীত খতিব। খুতবা শোনার পাশাপাশি হাজিরা সারাদিন দোয়া, ইসতেগফার ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করেন।
জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করা হয় এ দিন। এরপরের সময়টুকু আরাফার দিনে দোয়ার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। হাজিরা আরাফার বিশাল ময়দানে নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান করে হাত তুলে গভীর ভক্তি ও বিনয়ের সঙ্গে দোয়া করেন। কোরআন ও হাদিস থেকে দোয়া পাঠ করেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত অব্যাহতভাবে ইসতেগফার করেন। এ সময়টি দোয়ার জন্য অত্যন্ত বরকতময়।
দোয়ার আদর্শ পদ্ধতি
দোয়া শুরু করতে হয় আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর গুণাবলি তুলে ধরে এবং প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরুদ পাঠ করে। এরপর ব্যক্তিগত চাহিদা ও কামনা-প্রার্থনা তুলে ধরা হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরাফার দিনের দোয়ার আদর্শ অনুসরণ করা সুন্নত, যাতে রয়েছে অশেষ কল্যাণ ও রহমতের বারতা।
আরাফার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল
মিনায় ফজরের নামাজ আদায়ের পর খাঁটি তাওবার অনুভব নিয়ে আরাফার ময়দানের পথে যাত্রা।
৯ জিলহজ দুপুরের আগ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম ফরজ রুকন।
জোহরের সময় আসার আগেই খাওয়া-দাওয়া ও জরুরি কাজ সেরে নেয়া। সূর্য ঢলার পর জোহরের নামাজের আগে গোসল করা সুন্নত।
নামাজের সময় হলে মসজিদে নামিরা অথবা আরাফার ময়দানে যেখানেই থাকুন না কেন, জামাতের সঙ্গে জোহর ও আসর একসঙ্গে আদায় করে দোয়া ও ইসতেগফার করা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মসজিদে নামিরায় জোহর ও আসরের নামাজ এক আজানে দুই ইকামাতে একত্রে আদায় বৈধ। তবে অন্য স্থানে থাকলে পৃথকভাবে দুই ওয়াক্ত আলাদাভাবে আদায় করতে হবে।
দু’হাত তুলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বেশি বেশি দোয়া করা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও অন্যান্য নবী-রাসুলদের দোয়া পাঠ করা।
আরাফার অন্যতম ফজিলতপূর্ণ দোয়া হলো:
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আ’লা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির।”
কোরআন তিলাওয়াত ও নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা আরাফার দিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল।
সম্ভব হলে মাটিতে সিজদার মাধ্যমে আল্লাহর সামনে নিজেকে সমর্পণ করে দীর্ঘ সময় দোয়া করা।
সূর্য অস্ত যাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে মাগরিব না পড়ে মুজদালিফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা সুন্নত।